তৈরি দড়ি, অপেক্ষায় ফাঁসির কাঠ। তবে কালও ঝুলবে না নির্ভয়ার খুনি চার!

নয়াদিল্লি: ফাঁসির দড়ি, ফাঁসুরে হাজির। সাজসজ্জায় প্রায় তৈরি ফাঁসির কক্ষ। কিন্তু নেই শুধু ৪ অপরাধী। হ্যাঁ, মঙ্গলবার সকাল ৬ টাতেই তিহার জেলের ফাঁসি কাঠে, নির্ভয়াকাণ্ডের ৪ আসামি, মুকেশ সিং-বিনয় শর্মা-অক্ষয় ঠাকুর-পবন গুপ্তার ঝোলার কথা কথা থাকলেও, ফাঁসির আগেরদিন আসামিদের আবেদন, দিল্লির আদালতের তরফে খারিজ করার পর ও, এক অপরাধীর আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পড়ে থাকার দরুন, পিছিয়ে গেল সব।

সোমবার বিকেলে, একপ্রকার নিশ্চিত হয়েছিল, আগামীকালই তাদের ফাঁসির কথা! সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে এমনই জানা গিয়েছিল।

একবার ২২ জানুয়ারি! তারপর, ১ ফেব্রুয়ারি! অবশেষে ৩ মার্চ! তারিখ পে তারিখের যাঁতাকলে বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের আসামিদের ফাঁসি।

তবে, এদিন একটু আশা তৈরি হয়। অবশেষে সেটিও পিছিয়ে গেল।

প্রসঙ্গত, চার আসামির তিনজন অক্ষয় ঠাকুর, পবন গুপ্তা এবং মুখেশ সিং, নিজেদের ফাঁসি স্থগিতের জন্য আবেদন করেন দিল্লির পাতিয়ালা আদালতে। সেই আবেদনই সোমবার খারিজ করে আদালত। এদিকে পবন গুপ্তার করা , কিউরেটিভও খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট। যার ফলে ফাঁসির ক্ষেত্রে তেমন কোনও বাধা থাকে না। তাই সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার সকাল ৬টাতেই তিহার জেলে ফাঁসি হতে পারত ওই চারজনের, এমনই জানা যায় সর্বভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে। কিন্তু রাষ্ট্রপতির কাছে এখনও রয়েছে একজন অপরাধীর প্রাণভিক্ষার আবেদন। তাই, কাল হচ্ছে না নির্ভয়া-কাণ্ডের চার অপরাধীর ফাঁসি। পরে এমনই জানান, দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টের বিচারক ধর্মেন্দ্র রাণা।

এদিনই, অপরাধী ওই চারজনের ফাঁসির পর, ওই আসামিদের মরণোত্তর অঙ্গদানের বিষয়ে, অনুমতির জন্য আবেদন করেন প্রাক্তন বিচারক এম.এফ সালদানা। কিন্তু আদালত সেই পিটিশন খারিজ করে, এই ফাঁসিকে ‘মানবিক দৃষ্টিতে’ দেখতে বলেন। স্বেচ্ছায় কেউ অঙ্গ দেওয়ার কথা না বললে, এইরকম অনুমতি দেওয়া যায় না বলেও মতামত ব্যক্ত করে মহামান্য আদালত। এরপর, স্বাভাবিকভাবেই ওই অঙ্গ-সংক্রান্ত আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।

নতুন এই নির্দেশের পর স্বভাবতই অখুশি নির্ভয়ার পরিবার। যদিও নির্ভয়ার মা আশা দেবী বারবার আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বিচার পর্ব ও শাস্তির এই দেরি নিয়ে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর চিকিৎসাশাস্ত্রে পাঠরত ছাত্রী, তাঁর বন্ধুর সঙ্গে ফিরছিলেন। দিল্লিতেই চলন্ত বাসে নৃশংস ঘটনার কবলে পড়েন তিনি। অকথ্য অত্যাচারের ফলে, কিছুদিন পর, ২৯ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় ২৩ বছরের ওই নির্যাতিতার। এই ঘটনার পর, উত্তাল হয় গোটা দেশ। আইন সংশোধনে বাধ্য হয় সরকার। তারপর বদলে যায় সবালকত্বের সংজ্ঞা। গ্রেফতার হয় ৬ অভিযুক্ত। দ্রুত বিচার শুরু হয়। একজন নাবালক হিসেবে গণ্য হয়ে ছাড়া পায়। রাম সিং নামে, আরেকজন জেলেই আত্মহত্যা করে। বাকি থাকা চারজনের বিচার চলতে থাকে। কিন্তু তা নিয়েও দেরির অভিযোগ ওঠে বারবার। বন্দীরা বারবার আবেদন করতে থাকে আদালতে, আবার কখনও রাষ্ট্রপতির কাছে। কিন্তু এক এক করে বারবার খারিজ করা হয় সব আবেদন। অবশেষে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আদালত। অবশেষে ২০২০-র ২২ জানুয়ারি, ফাঁসির দিন ধার্য হলেও তা পিছিয়ে যায়। ফের দিন ধার্য হয় ১ মার্চ। আবার পিছিয়ে যায় দিন। এবার ৩ মার্চ ধার্য করা হয়। কিন্তু তাতেও বাঁধে আবেদনের গেরো। এবার, অবশেষে স্বস্তির কথা থাকলেও, সব বাধা আবার অতিক্রম হল না। মঙ্গলবারও ফাঁসি হচ্ছে না ওই চারজনের। এই খবরের সঙ্গে সঙ্গে হতাশ দেশবাসীর একটা বিরাট অংশ।

02.03.2020

Last Update: 6.26 p.m

34 views