তিনি মারা গিয়েছেন কিনা,খবর নেই। কিন্তু মরে গিয়েছেন, এই গুজবই উত্তাল করছে নেট দুনিয়া!

‘কাদম্বিনী মরিয়াই প্রমাণ করিল সে মরে নাই!’ সাহিত্যের কাদম্বিনীকে নিয়ে একথা লেখক বললেও, সম্প্রতি করোনা বিধ্বস্ত বিশ্বেও, একজন কিন্তু না ‘মরিয়াই’ সোশ্যাল দুনিয়ায় ‘মরণে’ সামিল হচ্ছেন বারবার। হ্যাঁ, দাপুটে শাসক, নেতা, উত্তর কোরিয়ার সর্বেসর্বা কিম জং উন। যাঁর মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে মারাত্মক গুজব। কল্পনা চলছে, আদেও তিনি মারা গিয়েছেন কিনা, শরীর কেমন আছে, কোনও অপারেশন হয়েছে কিনা তা নিয়ে। সেই প্রশ্নের উত্তর না থাকলেও #KimJungUnDead এই হ্যাশট্যাগে ভরে গিয়েছে টুইটারের মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট! ইতিমধ্যেই তাঁর মৃত্যুর খবর এবং ওই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে লক্ষাধিক বারের বেশি।

অনেকেই দাবি করছেন, তিনি নাকি আর নেই। মারা গিয়েছেন। এমনকি, তাঁর অবর্তমানে উত্তর কোরিয়ার শাসক হিসেবে কিমের বোন, কিম ইয়ো জংয়ের নাম চাউর হয়েছে বাজারে। এই মহিলাকে একপ্রকার শাসক বানিয়ে ফেলেছেন এই খবর প্রচারের কারবারিরা। অর্থাৎ কঠিন অনুশাসনে আবদ্ধ, অত্যাচারী শাসক হিসেবে অভিযোগ পাওয়া শাসক কিম জং উনের মৃত্যুর খবর এভাবেই রটিয়েছে নিমেষেই। কেউ কেউ আবার দাবি করেছেন, চিনা সংবাদমাধ্যমে নাকি কিমের মৃতদেহ দেখানো হয়েছে! এমনকি কেউ কেউ দাবি করেছেন, কিমের সত্যিই নাকি মৃত্যু হয়েছে। আদতে এই ঘটনার ভিত্তি কি? সত্যটাই বা কতটা?

অনুসন্ধান করি আমরা। দেখা যায়, শুধুমাত্র টুইটার ব্যবহার করা হাজার-হাজার মানুষের কাছ থেকেও ছড়িয়েছে এই খবর। কোনও ভিত্তি অথবা সঠিক সোর্স না থাকলেও, শুধুমাত্র গুজবের বশেই বিরাট অংশের মধ্যে ছড়িয়ে গিয়েছে এই খবর। অত্যাচারী শাসক, এই অভিযোগ তুলে মিমের বন্যা ঘটেছে এই সমস্ত সাইটে।

যদিও, আপাতার্থে, করোনা মোকাবিলায় সফল কিমের সরকার। এমনটাই প্রকাশ্যে জানা গিয়েছে। নগণ্য আক্রান্তের সংখ্যা প্রকাশ্যে এসেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই, কিমের ঠাকুরদাদা অর্থাৎ উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম দুই সাং এঁর ১০৮ তম জন্মবার্ষিকী ছিল ১৫ এপ্রিল। প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানে কিম জং উন থাকলেও, এই বছর তিনি উপস্থিত থাকেননি। তখন থেকে শুরু হয় জল্পনা, কেন, কিম জং উন এমন করলেন? ঘটনার ঘনঘটায় বিভিন্ন গল্প রটতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম কিমের অসুস্থতার কথা জানায়।

কেউ কেউ দাবি করেন, তাঁর হৃদরোগ আছে। তার চিকিৎসা হচ্ছে। এবং সেই অপারেশনের পরে কিম জং উনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। সংবামাধ্যমে এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই এই খবরে, যদি এমন ঘটে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।’

আগ বাড়িয়ে ট্রাম্পের বলা এই কথাতেও জল্পনা শুরু হয় আরও। সম্প্রতি রয়টার্সের এক সাংবাদিক টুইট করে জানিয়েছেন, চিন থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল কিমের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন। এখানেও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ, সত্যিই তাহলে গুরুতর অসুস্থ কিম জং উন। বজারে ছড়িয়ে যাওয়া মৃত্যুর খবর অসত্য হলেও, কেন, হঠাৎ চিনের বিশেষজ্ঞ দল উওর কোরিয়া চলে গেল? তাহলে কি তিনি গুরুতর অসুস্থ? নাকি কোনও নতুন রাজনৈতিক পথের ইঙ্গিত?

এদিকে উত্তর কোরিয়ার একটি জায়গায় কিমের নিজস্ব ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে বলেও একটি স্যাটেলাইট ছবি ভাইরাল হয়েছে। যা দেখে অনেকে ফের বলছেন, একই জায়গায় দাঁড়িয়ে কেন ওই ব্যক্তিগত ট্রেন? তাহলে তিনি অপারগ? শক্তি হারিয়েছেন? অনেকেই বলছেন, কিমের বর্তমান অসুস্থতা এবং তাঁর মৃত্যুর খবরের বাস্তব ভিত্তি নেই। অর্থাৎ তেমন কোনও প্রমাণ নেই এখনও। তাই, এইমুহূর্তে এই খবরের খুব একটা সত্যতা না থাকলেও, কিছু আদতে ঘটেছে কিনা? প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও।

তবুও, আপাতত আমরা বলতেই পারি, কিমের ‘মৃত্যু’টি এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে গুজবই বটে। (সরকারি তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত।)

_________________________

২৬.০৪.২০২০
কলকাতা